বাধ্যতামূলক মোটর বীমার ওপর ভর করেই টিকে আছে ইরানের বীমা বাজার

সংবাদ ডেস্ক: আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা ও কঠোর নিয়ন্ত্রক তদারকির মধ্যেও ইরানের বীমা খাত কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। দেশটির বীমা বাজার তদারকি করে সেন্ট্রাল ইন্স্যুরেন্স অব ইরান (বিমেহ মারকাজি)। অর্থনৈতিক চাপ থাকা সত্ত্বেও বাধ্যতামূলক বীমা পণ্যের কারণে খাতটি তুলনামূলকভাবে স্থিতিশীল রয়েছে।

ইরানের বীমা বাজারে মোটর থার্ড-পার্টি লায়াবিলিটি (টিপিএল) বীমা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। দেশটির সব যানবাহনের জন্য এই বীমা বাধ্যতামূলক হওয়ায় এটি দীর্ঘদিন ধরে মোট বীমা প্রিমিয়ামের বড় একটি অংশ দখল করে আছে।

মোটর বীমার পাশাপাশি বাজারে আরও বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ বীমা পণ্য রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে সম্পত্তি ও অগ্নি বীমা, দায়বদ্ধতা বীমা, মেরিন এবং ইঞ্জিনিয়ারিং বীমা। এছাড়া সাম্প্রতিক বছরগুলোতে লাইফ ইন্স্যুরেন্স ও সম্পূরক স্বাস্থ্য বীমার চাহিদাও ধীরে ধীরে বাড়ছে।

দাবি বা ক্লেইমের ক্ষেত্রে মোটর দুর্ঘটনাই প্রধান অংশ জুড়ে রয়েছে। বাধ্যতামূলক মোটর বীমা এবং সড়কে যানবাহনের উচ্চ চলাচল এর মূল কারণ। অন্যদিকে ভূমিকম্প ও বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ সম্পত্তি বীমা দাবিকে প্রভাবিত করে। একই সঙ্গে স্বাস্থ্যসেবার ব্যয় বৃদ্ধির কারণে স্বাস্থ্য বীমার ক্লেইমও বাড়ছে।

ইরানে বীমা চুক্তি দেশটির সিভিল আইন ও বীমা আইন অনুযায়ী পরিচালিত হয়। এসব আইনের অধীনে পলিসি গ্রহণের সময় গ্রাহকদের ঝুঁকি সম্পর্কিত গুরুত্বপূর্ণ তথ্য প্রকাশ করা বাধ্যতামূলক। সাধারণত যুদ্ধজনিত ক্ষতি, ইচ্ছাকৃতভাবে ঘটানো ঘটনা এবং অঘোষিত ঝুঁকি থেকে সৃষ্ট ক্ষতি বীমা কভারেজের বাইরে থাকে।

বর্তমানে ইরানের বীমা বাজার মূলত দেশীয় প্রতিষ্ঠানের নিয়ন্ত্রণেই রয়েছে। আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞার কারণে বিদেশি অংশগ্রহণ সীমিত। একই সঙ্গে সরকারি প্রভাব বাজারের নিয়ন্ত্রণ ও প্রিমিয়াম নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।