ভারতের ডেলিভারি কর্মীদের বীমা সুরক্ষা কম, ঝুঁকি বেশি

প্রকাশিত: ২৪ আগস্ট ২০২৬, ১০:০৫ পিএম

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: প্রতিদিন ঝুঁকি নিয়ে রাস্তায় কাজ করেন ভারতের লাখ লাখ ডেলিভারি কর্মী। খাবার, ওষুধ ও প্রয়োজনীয় পণ্য পৌঁছে দিতে তাদের ছুটতে হয় ব্যস্ত সড়কে। কিন্তু দুর্ঘটনা বা মৃত্যুর পর তাদের পরিবারের জন্য থাকা বীমার টাকা অনেক সময় যথেষ্ট হয় না। ফলে একজন কর্মীর আয় বন্ধ হলে সমস্যায় পড়ে পুরো পরিবার।

বীমা হলো এমন একটি ব্যবস্থা, যেখানে বিপদের সময়ে ব্যক্তি বা তার পরিবার আর্থিক সহায়তা পায়। কোনো ব্যক্তি মারা গেলে, দুর্ঘটনায় কাজ করতে না পারলে বা বড় চিকিৎসার প্রয়োজন হলে বীমার টাকা পরিবারকে সহায়তা করতে পারে। ঝুঁকিপূর্ণ কাজে থাকা মানুষের জন্য বীমা গুরুত্বপূর্ণ, কারণ বিপদের সময়ে এটি পরিবারের আর্থিক চাপ কমাতে পারে।

ভারতে অ্যাপের মাধ্যমে কাজ করা ডেলিভারি কর্মীর সংখ্যা দ্রুত বাড়ছে। খাবার ডেলিভারি, অনলাইন পণ্যের সরবরাহ এবং দ্রুত ডেলিভারির কাজে এখন লাখ লাখ মানুষ যুক্ত। ভারত সরকারের নীতিনির্ধারণী প্রতিষ্ঠান নীতি আয়োগের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৯-৩০ সালের মধ্যে দেশটিতে অ্যাপের মাধ্যমে কাজ করা কর্মীর সংখ্যা প্রায় ২.৩৫ কোটি হতে পারে। তবে এসব কর্মীর বড় অংশের নেই স্থায়ী চাকরি, পেনশন বা চাকরির মতো নিয়মিত সুবিধা।

ডেলিভারি কর্মীদের জন্য ভারতের সরকার কিছু বীমা সুবিধা চালু করেছে। এর মধ্যে প্রধানমন্ত্রী জীবন জ্যোতি বীমা যোজনা এবং প্রধানমন্ত্রী সুরক্ষা বীমা যোজনা রয়েছে। প্রধানমন্ত্রী জীবন জ্যোতি বীমা যোজনা হলো একটি লাইফ বীমা প্রকল্প। এতে কোনো ব্যক্তি মারা গেলে তার পরিবার ২ লাখ টাকা পর্যন্ত আর্থিক সহায়তা পেতে পারে। আর প্রধানমন্ত্রী সুরক্ষা বীমা যোজনা হলো দুর্ঘটনার সময় আর্থিক সহায়তার একটি বীমা প্রকল্প। এতে দুর্ঘটনায় মৃত্যু হলে বা কাজ করতে না পারলে ২ লাখ টাকা পর্যন্ত সহায়তা দেয়া হয়।

তবে প্রশ্ন হলো, ২ লাখ টাকা কি একটি পরিবারের ভবিষ্যৎ নিরাপদ করার জন্য যথেষ্ট?

একজন ডেলিভারি কর্মী পরিবারের প্রধান উপার্জনকারী সদস্য। তার মৃত্যু হলে পরিবারের আয় বন্ধ হয়ে যায়। তখন চিকিৎসার খরচ, ঋণ পরিশোধ, সন্তানের পড়াশোনা এবং সংসারের খরচ চালানো কঠিন হয়ে পড়ে। ২ লাখ টাকা কিছু সময়ের জন্য সহায়তা দিতে পারে, কিন্তু দীর্ঘদিনের আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা কঠিন।

ডেলিভারি কর্মীরা যেসব অ্যাপের মাধ্যমে কাজ করেন, সেসব প্রতিষ্ঠানও বীমা সুবিধা দিয়ে থাকে। জোম্যাটো, সুইগি ও অ্যামাজনের মতো বড় অনলাইন প্ল্যাটফর্ম কর্মীদের জন্য দুর্ঘটনা ও মৃত্যুর ক্ষেত্রে আর্থিক সহায়তার ব্যবস্থা করেছে। তবে এসব সুবিধা অনেক সময় নির্দিষ্ট শর্তের ওপর নির্ভর করে। আবার অনেক কর্মী একাধিক অ্যাপে কাজ করেন, ফলে দুর্ঘটনার পর বীমার টাকা পাওয়ার প্রক্রিয়া অনেক সময় কঠিন হয়ে পড়ে।

বীমা সম্পর্কে জানার অভাবও বড় সমস্যা। অনেক কর্মী জানেন না তাদের জন্য কী ধরনের বীমা রয়েছে, দুর্ঘটনার পর কীভাবে টাকা পাওয়ার আবেদন করতে হয় বা কোন কাগজপত্র প্রয়োজন। ফলে বীমা থাকলেও অনেক পরিবার সময়মতো সহায়তা পায় না।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ডেলিভারি কর্মীদের জন্য শুধু মৃত্যুর পর অর্থ দেয়ার ব্যবস্থা যথেষ্ট নয়। এমন বীমা প্রয়োজন, যেখানে দুর্ঘটনার চিকিৎসা খরচ, কাজ বন্ধ থাকলে আয়ের ক্ষতি এবং দীর্ঘ সময় কাজ করতে না পারার পরিস্থিতির জন্যও সুরক্ষা থাকবে। কম খরচে সহজ শর্তের বীমা চালু করা গেলে দুর্ঘটনার সময় এসব কর্মী ও তাদের পরিবার আরও ভালোভাবে সহায়তা পেতে পারে।

মন্তব্য সমূহ ()

আপনার একটি মন্তব্য লিখুন:

এখনো কোনো মন্তব্য করা হয়নি।