স্থবির আইডিআরএ: চেয়ারম্যান নিয়োগ ও কর্মকর্তাদের বেতন পরিশোধে আইনি নোটিশ

নিজস্ব প্রতিবেদক: বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষে (আইডিআরএ) দীর্ঘ এক মাসেরও বেশি সময় ধরে চলা প্রশাসনিক ও আর্থিক অচলাবস্থা নিরসনে সরকারকে আইনি নোটিশ প্রদান করা হয়েছে। সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী তনয় কুমার সাহা জনস্বার্থে এই ‘ডিমান্ড জাস্টিস নোটিশ’ বা আইনি নোটিশ পাঠিয়েছেন।
সোমবার (৬ এপ্রিল) অর্থ মন্ত্রণালয়ের সচিব এবং আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সচিব বরাবর এই নোটিশ পাঠানো হয়।
নোটিশে উল্লেখ করা হয়, গত ২ মার্চ ২০২৬ তারিখে আইডিআরএ'র তৎকালীন চেয়ারম্যান ড. এম আসলাম আলম ব্যক্তিগত কারণ দেখিয়ে পদত্যাগ করেন। তার পদত্যাগের পর এক মাস অতিবাহিত হলেও সরকার নতুন কোনো চেয়ারম্যান বা ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান নিয়োগ দেয়নি।
বর্তমানে চারজন সদস্য থাকলেও কাউকে দায়িত্ব না দেয়ায় সংস্থাটির সকল কার্যক্রম স্থবির হয়ে পড়েছে। তৈরি হয়েছে প্রশাসনিক ও আর্থিক সংকট।
উদ্ভত পরিস্থিতে কর্তৃপক্ষের কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের বেতন বন্ধ রয়েছে, যা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। বেতন বন্ধ হওয়ার এই বিষয়টি সংবিধানের ২৭ ও ৩১ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী মৌলিক অধিকার ও জীবনধারণের অধিকারের পরিপন্থী বলে উল্লেখ করা হয়েছে নোটিশে।
এতে আরো বলা হয়, বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ আইন-২০১০ অনুযায়ী এই সংস্থার কার্যক্রম পরিচালনার বাধ্যবাধকতা থাকলেও শীর্ষ পদ শূন্য রেখে আইনি ও প্রশাসনিক বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করা হয়েছে।
এছাড়া নিয়ন্ত্রক সংস্থা কার্যত অচল হয়ে পড়ায় বীমা খাতের লাইসেন্স প্রদান, নবায়ন ও বিবাদ নিষ্পত্তির মতো গুরুত্বপূর্ণ কার্যক্রমগুলো পুরোপুরি থমকে গেছে । এর ফলে সাধারণ পলিসিহোল্ডাররা যেমন ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন, তেমনি জাতীয় অর্থনীতিতেও অপূরণীয় ক্ষতি সাধিত হচ্ছে ।
নোটিশে আগামী ৭ দিনের মধ্যে নতুন চেয়ারম্যান নিয়োগ অথবা বর্তমান সদস্যদের মধ্য থেকে একজনকে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব প্রদানের দাবি জানানো হয়েছে। এই সময়ের মধ্যে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা না হলে সংবিধানের ১০২ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী উচ্চ আদালতে রিট পিটিশন দায়ের করা হবে বলে নোটিশে সতর্ক করা হয়েছে।
অ্যাডভোকেট তনয় কুমার সাহা বলেন, বীমা খাতের অভিভাবক প্রতিষ্ঠান আইডিআরএ'তে দীর্ঘদিনের নেতৃত্বশূন্যতা ও বেতন বন্ধের বিষয়টি কেবল প্রশাসনিক ব্যর্থতা নয়, বরং একটি জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ খাতের জন্য চরম উদ্বেগজনক। একটি নিয়ন্ত্রক সংস্থা এভাবে অভিভাবকহীন থাকা এবং কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মৌলিক অধিকার ক্ষুণ্ন হওয়া দেশের বীমা শিল্প ও সাধারণ পলিসিহোল্ডারদের আস্থাকে মারাত্মক সংকটের মুখে ঠেলে দিচ্ছে।



