শিপিং বীমায় যুক্তরাজ্যের আধিপত্যে চ্যালেঞ্জ, ২০ বিলিয়ন ডলারের উদ্যোগ যুক্তরাষ্ট্রের

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: আন্তর্জাতিক শিপিং বীমা খাতে যুক্তরাজ্যের দীর্ঘদিনের আধিপত্যে সরাসরি চ্যালেঞ্জ ছুঁড়েছে যুক্তরাষ্ট্র, বিশেষ করে স্ট্রেইট অব হরমুজের মতো উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ সমুদ্রপথকে কেন্দ্র করে।
২০২৬ সালের মার্চে যুক্তরাষ্ট্র প্রশাসন ইউএস ইন্টারন্যাশনাল ডেভেলপমেন্ট ফাইন্যান্স করপোরেশন (ডিএফসি)-কে নির্দেশ দেয় ২০ বিলিয়ন ডলারের একটি সরকার-সমর্থিত পুনর্বীমা (রি-ইন্স্যুরেন্স) সুবিধা গড়ে তুলতে। এই তহবিলের আওতায় জাহাজের হাল, পণ্য এবং রাজনৈতিক ঝুঁকির বীমা কভার করা হবে, বিশেষ করে পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে চলাচলকারী জাহাজগুলোর জন্য।
নতুন এই উদ্যোগের লক্ষ্য হলো বিদ্যমান বাজারের তুলনায় কম প্রিমিয়ামে বীমা সেবা প্রদান করা। পাশাপাশি, প্রয়োজনে বাণিজ্যিক জাহাজকে যুক্তরাষ্ট্র নৌবাহিনীর এসকর্ট দেয়ার বিষয়টিও বিবেচনায় রাখা হয়েছে।
অন্যদিকে, তিন শতাব্দীরও বেশি সময় ধরে বৈশ্বিক মেরিন ও যুদ্ধঝুঁকি বীমা বাজারে নেতৃত্ব দিয়ে আসা লয়েডস অব লন্ডন সাম্প্রতিক সময়ে সমালোচনার মুখে পড়েছে। ক্রমবর্ধমান নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার প্রেক্ষাপটে প্রিমিয়াম বৃদ্ধি ও কভারেজ সীমিত করার অভিযোগ তুলেছেন বাজার সংশ্লিষ্টরা।
যুক্তরাষ্ট্রের এই পদক্ষেপের অন্যতম উদ্দেশ্য হলো আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক বাণিজ্যে আস্থা ফিরিয়ে আনা, জ্বালানি সরবরাহের রুটগুলোকে স্থিতিশীল রাখা এবং বীমা প্রিমিয়ামের একটি অংশ যুক্তরাষ্ট্র-সমর্থিত প্রতিষ্ঠানের দিকে প্রবাহিত করা। এ লক্ষ্যে চাব্ব লিমিটেডসহ বিভিন্ন বীমা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে অংশীদারিত্ব গড়ে তোলার পরিকল্পনাও রয়েছে।
তবে লয়েডস অব লন্ডন জানিয়েছে, তারা এই উদ্যোগকে ইতিবাচকভাবে দেখছে এবং সহযোগিতার জন্য উন্মুক্ত। একই সঙ্গে প্রতিষ্ঠানটি দাবি করেছে যে, বৈশ্বিক যুদ্ধঝুঁকি বীমা বাজারে তাদের কেন্দ্রীয় ভূমিকা এখনো অটুট রয়েছে।
শিল্প বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের নতুন পুনর্বীমা সুবিধা চালু হলে কিছু ব্যবসা লন্ডন থেকে সরে যেতে পারে। তবে লয়েডস তাদের শক্তিশালী নেটওয়ার্ক, অভিজ্ঞতা এবং বৈশ্বিক উপস্থিতির কারণে বাজারের উল্লেখযোগ্য অংশ ধরে রাখতে সক্ষম হবে বলেই ধারণা করা হচ্ছে।
তবে বাস্তবায়নগত চ্যালেঞ্জ এবং কভারেজের সীমাবদ্ধতার কারণে এই উদ্যোগের দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব এখনো অনিশ্চিত রয়ে গেছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।



