আন্তর্জাতিক ডেস্ক: বিদেশ ভ্রমণের সময় দুর্ঘটনা, অসুস্থতা বা লাগেজ হারানোর মতো ঘটনায় আর্থিক ক্ষতি কমাতে সিঙ্গাপুরে ভ্রমণ বীমার ব্যবহার বাড়ছে। দেশটির ৮৬ শতাংশ ভ্রমণকারীর কাছে বর্তমানে কোনো না কোনো ধরনের ভ্রমণ বীমা রয়েছে। গবেষণা প্রতিষ্ঠান রেডিওন ও আন্তর্জাতিক জরিপ সংস্থা ইপসোসের যৌথ এক গবেষণায় এ তথ্য উঠে এসেছে।
২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারির শেষ থেকে এপ্রিলের শুরু পর্যন্ত ১ হাজার সিঙ্গাপুরবাসীর ওপর চালানো জরিপে দেখা যায়, ভ্রমণের সম্ভাব্য ঝুঁকি সম্পর্কে দেশটির মানুষের সচেতনতা বেশি। জরিপে অংশ নেয়া ৫১ শতাংশ মানুষ জানিয়েছেন, ভবিষ্যতেও তারা নিয়মিত ভ্রমণ বীমা নিতে আগ্রহী।
ভ্রমণ বীমা হলো এমন একটি আর্থিক সুরক্ষা, যা বিদেশ সফরের সময় বিভিন্ন অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনায় ক্ষতি কমাতে সহায়তা করে। বিদেশে অসুস্থ হয়ে চিকিৎসার প্রয়োজন হলে, লাগেজ হারালে, দুর্ঘটনা ঘটলে বা কোনো কারণে ভ্রমণ বাতিল হলে বীমা প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে চুক্তির শর্ত অনুযায়ী আর্থিক সহায়তা পাওয়া যায়।
সিঙ্গাপুরে ভ্রমণ বীমা নেয়ার অন্যতম কারণ হলো মানুষের বেশি ভ্রমণ ব্যয় এবং ঝুঁকি সম্পর্কে সচেতনতা। দেশটির নাগরিকরা বিশ্বের অন্যতম বেশি ব্যয়কারী ভ্রমণকারীদের মধ্যে রয়েছেন। একটি ছুটির ভ্রমণে তাদের গড় খরচ প্রায় ২ হাজার ৮১৮ মার্কিন ডলার। তাই ভ্রমণের সময় বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির ঝুঁকি কমাতে অনেকেই আগেই বীমা করছেন।
গবেষণায় দেখা গেছে, সিঙ্গাপুরের ভ্রমণকারীরা সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন ব্যক্তিগত জিনিসপত্রের নিরাপত্তাকে। ৯৩ শতাংশ মানুষ লাগেজ হারানো, চুরি বা ক্ষতির ক্ষেত্রে বীমা সুবিধাকে প্রয়োজনীয় মনে করেন।
এছাড়া ৯২ শতাংশ মানুষ যাতায়াতের সময় দুর্ঘটনার সুরক্ষা, ৯০ শতাংশ স্বাস্থ্যঝুঁকি, ৮৭ শতাংশ ব্যক্তিগত নিরাপত্তা এবং ৮৩ শতাংশ প্রাকৃতিক দুর্যোগের ক্ষেত্রে বীমা সুবিধাকে গুরুত্বপূর্ণ বলেছেন।
সিঙ্গাপুরে ভ্রমণ বীমার মধ্যে নির্দিষ্ট একটি ভ্রমণের জন্য নেয়া পলিসি সবচেয়ে বেশি প্রচলিত। অর্থাৎ, কেউ নির্দিষ্ট সময়ের বিদেশ সফরের জন্য আলাদা করে এই বীমা করেন। পাশাপাশি নিয়মিত ভ্রমণকারীদের অনেকে পুরো বছরের জন্যও ভ্রমণ বীমা নিয়ে থাকেন।
তবে সিঙ্গাপুরে সাধারণ বিদেশি পর্যটকদের জন্য ভ্রমণ বীমা বাধ্যতামূলক নয়। ভ্রমণের সময় সম্ভাব্য চিকিৎসা খরচ, দুর্ঘটনা বা অন্যান্য ঝুঁকি থেকে আর্থিক সুরক্ষা পেতে অনেকেই এই বীমা গ্রহণ করেন।
বিশ্লেষকদের মতে, সিঙ্গাপুরে ভ্রমণ বীমার ব্যবহার বৃদ্ধির প্রবণতা বাংলাদেশের বীমা খাতের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। বাংলাদেশে এখনো অনেক মানুষ ভ্রমণ বীমার প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে জানেন না। বীমার সুবিধা, নিয়ম এবং আর্থিক সহায়তা পাওয়ার প্রক্রিয়া সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণার অভাবও এর একটি কারণ।
বাংলাদেশে ভ্রমণ বীমার ব্যবহার বাড়াতে সাধারণ মানুষের সচেতনতা বৃদ্ধি, সহজ ভাষায় তথ্য দেয়া, সহজ শর্তের পলিসি চালু এবং আর্থিক সহায়তার আবেদন দ্রুত সমাধানের ব্যবস্থা প্রয়োজন।
এদিকে, ভ্রমণ পরিকল্পনা ও বীমা বাছাইয়ের ক্ষেত্রেও প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ছে। জরিপে ৪৫ শতাংশ সিঙ্গাপুরবাসী জানিয়েছেন, তারা ভ্রমণের পরিকল্পনা ও বিভিন্ন বিকল্প তুলনা করতে এআই ব্যবহার করেছেন। ভবিষ্যতে ৪৭ শতাংশ মানুষ ভ্রমণ বীমার পণ্য বাছাইয়ের ক্ষেত্রেও এআই ব্যবহারের কথা জানিয়েছেন।
তবে প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়লেও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়ার ক্ষেত্রে মানুষ এখনো নির্ভরযোগ্য পরামর্শকে গুরুত্ব দিচ্ছেন। ফলে ভবিষ্যতের ভ্রমণ বীমায় সহজ ডিজিটাল সেবা এবং গ্রাহকের প্রয়োজন অনুযায়ী পরামর্শ- দুইটির সমন্বয় গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।
আপনার একটি মন্তব্য লিখুন:
এখনো কোনো মন্তব্য করা হয়নি।