চেয়ারম্যানহীন আইডিআরএ, স্থবির বীমা খাত

নিজস্ব প্রতিবেদক: চেয়ারম্যান পদ শূন্য থাকায় বড় ধরনের নীতিনির্ধারণী ও প্রশাসনিক অচলাবস্থা তৈরি হয়েছে বীমা খাতের নিয়ন্ত্রক সংস্থা আইডিআরএ-তে। স্থবির হয়ে পড়েছে গুরুত্বপূর্ণ পলিসি অনুমোদন, বীমা দাবির নিষ্পত্তি এবং কোম্পানিগুলোর অনিয়ম তদারকি।

এর ফলে বিনিয়োগকারী ও গ্রাহকদের মধ্যে গভীর অনিশ্চয়তা সৃষ্টি করছে। নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে দীর্ঘমেয়াদি সংস্কারেও।

ব্যক্তিগত কারণ দেখিয়ে গত ২ মার্চ ২০২৬ তারিখে আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সচিব বরাবর পদত্যাগপত্র জমা দেন বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ (আইডিআরএ)’র চেয়ারম্যান ড. এম আসলাম আলম।

এর পর থেকেই নেতৃত্বের সংকট তৈরি হয়েছে নিয়ন্ত্রক সংস্থাটিতে।

এর আগে সাধারণত আইডিআরএ চেয়ারম্যান পদত্যাগ বা মেয়াদ শেষ হওয়ার পর সর্বোচ্চ দুই থেকে তিন দিনের মধ্যে চেয়ারম্যান পদটিতে নিয়োগ দিয়েছে সরকার।

তবে এবার দুই সপ্তাহের বেশি সময় অতিবাহিত হলেও সংস্থাটির শীর্ষ এ পদে কাউকে নিয়োগ দেয়নি সরকার। এমনকি কাউকে ভারপ্রাপ্ত হিসেবেও দায়িত্ব দেয়া হয়নি বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

সরকারের সাবেক সিনিয়র সচিব ড. এম আসলাম আলম ২০২৪ সালের ৯ সেপ্টেম্বর বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের (আইডিআরএ)’র চেয়ারম্যান হিসেবে যোগদান করেন।

যোগদানের তারিখ থেকে পরবর্তী ৩ বছরের জন্য তাকে এই পদে নিয়োগ দেয়া হয়। এই হিসাবে তার মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা ছিল ২০২৭ সালের ৮ সেপ্টেম্বর।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আইডিআরএ’র মতো একটি বিশেষায়িত সংস্থায় দীর্ঘদিন চেয়ারম্যান না থাকা বীমা খাতের শৃঙ্খলার জন্য হুমকিস্বরূপ। দ্রুত যোগ্য ও সৎ ব্যক্তি নিয়োগ দিয়ে এই শূন্যতা পূরণ না করলে সামগ্রিক খাতের অচলাবস্থা দীর্ঘায়িত হতে পারে।

আইডিআরএ চেয়ারম্যান পদ শূন্য থাকায় যেসব সংকট তৈরি হয়েছে-

লাইফ ও নন-লাইফ বীমা কোম্পানিগুলো নিয়ে নানা ধরনের সমস্যার সমাধানে বিভিন্ন সিদ্ধান্ত গ্রহণসহ কোম্পানিগুলোর লাইসেন্স নবায়নের কাজ বন্ধ রয়েছে।

বীমা কোম্পানিগুলোর অনিয়ম-দুর্নীতি বন্ধ ও আর্থিক স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার তদারকি কার্যক্রম দুর্বল হয়ে পড়েছে।

গ্রাহকদের বীমা দাবি পরিশোধে দীর্ঘসূত্রিতা নিরসনে দ্রুত কোনো নির্দেশনা দেয়া সম্ভব হচ্ছে না।

চেয়ারম্যান না থাকায় নিয়ন্ত্রক সংস্থার কার্যক্রম নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়েছে। ফলে বীমা খাতের ওপর গ্রাহক এবং দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারীদের আস্থা হ্রাস পাচ্ছে, যা দেশের আর্থিক খাতের জন্য ক্ষতিকর।

বীমা খাতের সংস্কারে নীতিগত সিদ্ধান্ত গ্রহণে স্থবিরতা নেমে এসেছে। এ ছাড়াও খাতটির উন্নয়নে গৃহীত বিভিন্ন পদক্ষেপ বাস্তবায়নে নেমে এসেছে স্থবিরতা।