বীমা কোম্পানির নিবন্ধন ফি বৃদ্ধির গেজেট বাতিলে আইনি নোটিশ

নিজস্ব প্রতিবেদক: বীমা কোম্পানির নিবন্ধন নবায়ন ফি অস্বাভাবিক বৃদ্ধি করে প্রকাশিত 'বীমা ব্যবসা নিবন্ধন ফি (সংশোধন) বিধিমালা, ২০২৪' অবিলম্বে বাতিল এবং বর্ধিত ফি আদায়ের কার্যক্রম স্থগিত চেয়ে আইনি নোটিশ পাঠানো হয়েছে।

সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী তনয় কুমার সাহা সোমবার (২০ এপ্রিল) জনস্বার্থে এই আইনি নোটিশ জারি করেন। এতে অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সচিব এবং বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যানকে বিবাদী করা হয়েছে।

আগামী ৭ দিনের মধ্যে এই সংশোধনীর প্রয়োগ স্থগিত করতে এবং ২০১৮ সালের বিধি অনুযায়ী ফি প্রদানকারী কোম্পানিগুলোর লাইসেন্স নবায়ন করতে বলা হয়েছে নোটিশে। অন্যথায়, সংবিধানের ১০২ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী জনস্বার্থে হাইকোর্ট বিভাগে রিট পিটিশন দায়ের করা হবে বলে নোটিশে হুঁশিয়ারি দেয়া হয়েছে।

নোটিশে উল্লেখ করা হয়, ২০১৮ সালের গেজেট অনুযায়ী প্রতি হাজারে ফি ছিল ১.০০ টাকা। কিন্তু ২০২৪ সালের সংশোধিত বিধিমালা অনুযায়ী এই ফি অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি করা হয়েছে।

এক্ষেত্রে ১০০ কোটি টাকা গ্রস প্রিমিয়াম সম্পন্ন একটি কোম্পানির ফি ১০ লাখ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২৫ লাখ টাকা করা হয়েছে, যা ২০৩২ সাল নাগাদ ৫০ লাখ টাকায় গিয়ে ঠেকবে। এটি প্রায় ১৫০% থেকে ৫০০% পর্যন্ত বৃদ্ধি, যা অযৌক্তিক বলে নোটিশে দাবি করা হয়।

আইনজীবী জানান, অনেক কোম্পানি ইতোমধ্যে ২০২৫ সালের ৩০ নভেম্বরের মধ্যে পূর্বের বিধি অনুযায়ী ফি জমা দিয়ে তাদের আইনি বাধ্যবাধকতা পূরণ করেছে। ২০২৬ সালে এসে নতুন বিধিমালাকে পূর্বের লেনদেনের ওপর প্রয়োগ করা আইনের মৌলিক নীতি “নতুন আইন ভবিষ্যতের জন্য, অতীতের জন্য নয়”র পরিপন্থী।

নোটিশে বলা হয়, ফি’র এই বিশাল বোঝা বীমা কোম্পানিগুলোর উদ্বৃত্ত কমিয়ে দেবে। ফলে গ্রাহকরা তাদের প্রত্যাশিত বোনাস থেকে বঞ্চিত হবেন এবং শেয়ারহোল্ডারদের লভ্যাংশ কমে যাবে, যা পুরো বীমা খাতকে অস্থিতিশীল করে তুলতে পারে।

নোটিশে অভিযোগ করা হয়, আইডিআরএ’র প্রশাসনিক ব্যয় মেটানোর জন্য জনগণের ওপর এই বোঝা চাপিয়ে দেয়া নিয়ন্ত্রক সংস্থার শোষণমূলক আচরণের বহিঃপ্রকাশ। এই খরচ মেটানোর দায়িত্ব আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের।