কেন দ্রুত জনপ্রিয় হচ্ছে তাকাফুল বীমা

নিজস্ব প্রতিবেদক: বিশ্বজুড়ে ইসলামী আর্থিক ব্যবস্থার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে তাকাফুল বীমা দ্রুত জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। এটি মূলত প্রচলিত বীমার একটি শরিয়াহসম্মত বিকল্প, যেখানে পারস্পরিক সহযোগিতা ও দায়িত্ব ভাগাভাগির ভিত্তিতে ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা করা হয়।

তাকাফুল বীমায় অংশগ্রহণকারীরা একটি যৌথ তহবিলে অবদান রাখেন। এই তহবিল থেকে কোনো সদস্য ক্ষতির সম্মুখীন হলে তাকে আর্থিক সহায়তা দেয়া হয়।

তাকাফুল ব্যবস্থার একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হলো ‘তাবাররু’। এতে অংশগ্রহণকারীদের প্রদত্ত অবদানের একটি অংশ দান হিসেবে বিবেচিত হয় এবং তা ক্ষতিগ্রস্ত সদস্যদের সহায়তায় ব্যবহার করা হয়।

এই মডেলটি ইসলামী অর্থনীতির নীতিমালা অনুসারে পরিচালিত হয়। ফলে এতে তিনটি নিষিদ্ধ উপাদান এড়ানো হয়- রিবা (সুদ), গারার (অতিরিক্ত অনিশ্চয়তা) এবং মাইসির (জুয়া)।

তাকাফুল অপারেটররা যৌথ তহবিল পরিচালনা করে এবং সেই অর্থ শরিয়াহসম্মত খাতে বিনিয়োগ করে। কোনো উদ্বৃত্ত তৈরি হলে নির্দিষ্ট কাঠামোর ভিত্তিতে তা অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে বণ্টন করা হতে পারে।

শিল্প সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বর্তমানে বিশ্বব্যাপী তাকাফুল বাজারের আকার প্রায় ৪৫ বিলিয়ন ডলার। আগামী কয়েক বছরে এই খাতে প্রায় ৯ থেকে ১১ শতাংশ বার্ষিক যৌগিক প্রবৃদ্ধি (সিএজিআর) হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চল তাকাফুল খাতের সম্প্রসারণে নেতৃত্ব দিতে পারে। ২০৩২ সাল পর্যন্ত এই অঞ্চলে প্রবৃদ্ধি ১৮ শতাংশ পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে।

বর্তমানে ফ্যামিলি তাকাফুল ও সাধারণ তাকাফুল পণ্য বাজার সম্প্রসারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

বিশ্বের তাকাফুল খাতে সৌদি আরব ও মালয়েশিয়া গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত। এই দেশগুলোতে ইসলামী বীমা খাতের শক্তিশালী অবকাঠামো এবং কার্যকর নিয়ন্ত্রক কাঠামো রয়েছে।

এদিকে তাকাফুল খাতেও দ্রুত ডিজিটাল রূপান্তর ঘটছে। অনেক প্রতিষ্ঠান কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহার করে বিক্রয়, আন্ডাররাইটিং এবং দাবি নিষ্পত্তি প্রক্রিয়া আধুনিক করছে।

উদাহরণ হিসেবে, আল রাজহি তাকাফুল সম্প্রতি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রযুক্তি ব্যবহার করে তাদের বিক্রয় ও ক্লেইম ব্যবস্থাপনা উন্নত করার জন্য শিল্পখাতে স্বীকৃতি পেয়েছে।

গালফ কো-অপারেশন কাউন্সিল (জিসিসি) অঞ্চলে বিভিন্ন নিয়ন্ত্রক সংস্কার এবং জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচি (ইউএনডিপি)-এর মতো আন্তর্জাতিক সংস্থার উদ্যোগ তাকাফুল খাতকে আরও বিস্তৃত করতে সহায়তা করছে।

এই উদ্যোগগুলোর লক্ষ্য হলো ২০৩০ সালের মধ্যে বীমা সুরক্ষার বাইরে থাকা জনগোষ্ঠীর আর্থিক সুরক্ষা বাড়ানো।

বিশেষজ্ঞদের মতে, বৈশ্বিক আর্থিক ব্যবস্থায় বৈচিত্র্য বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ইসলামী মূল্যবোধভিত্তিক আর্থিক পণ্যের চাহিদাও বাড়ছে। ফলে আগামী বছরগুলোতে তাকাফুল বীমা বৈশ্বিক বীমা খাতে আরও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।