বৈশ্বিক ঝুঁকিতে শিপিং খাত রক্ষায় ভারতের $১.৪ বিলিয়ন উদ্যোগ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: বৈশ্বিক অস্থিরতা, ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা এবং আন্তর্জাতিক বীমা বাজারে অনিশ্চয়তার মধ্যে নিজেদের সামুদ্রিক বাণিজ্য সুরক্ষায় বড় পদক্ষেপ নিয়েছে ভারত। ১২৯.৮ বিলিয়ন রুপি (প্রায় ১.৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলার) সমপরিমাণ সার্বভৌম গ্যারান্টি অনুমোদনের মাধ্যমে দেশটি গঠন করতে যাচ্ছে ‘ভারত মেরিটাইম ইন্স্যুরেন্স পুল’ (বিএমআই পুল)। এই উদ্যোগের লক্ষ্য- যে কোনো পরিস্থিতিতে জাহাজ চলাচল ও বাণিজ্যে নিরবচ্ছিন্ন বীমা সুরক্ষা নিশ্চিত করা।

শনিবার (১৮ এপ্রিল) প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি-এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত অনুমোদিত হয়। পরে তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করেন।

নতুন এই বীমা পুল প্রথমে ১০ বছরের জন্য চালু থাকবে। প্রয়োজনে আরও পাঁচ বছর পর্যন্ত মেয়াদ বাড়ানোর সুযোগ রাখা হয়েছে। এই উদ্যোগ বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ, কারণ যুদ্ধ, আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা বা রাজনৈতিক উত্তেজনার সময় অনেক বিদেশি বীমা কোম্পানি বাজার থেকে সরে যায়। তখন বীমা কাভারেজ পাওয়া কঠিন হয়ে পড়ে এবং বাণিজ্যে বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি হয়।

বিএমআই পুল সেই ঝুঁকি কমানোর জন্যই তৈরি করা হচ্ছে। এর আওতায় জাহাজের মূল কাঠামো ও যন্ত্রপাতি, কার্গো, প্রোটেকশন অ্যান্ড ইনডেমনিটি (পি অ্যান্ড আই) এবং যুদ্ধঝুঁকি- সব ধরনের গুরুত্বপূর্ণ বীমা কভার থাকবে। এটি ভারতীয় পতাকাবাহী জাহাজ, ভারত-নিয়ন্ত্রিত জাহাজ এবং ভারতের সঙ্গে যুক্ত আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যে ব্যবহৃত জাহাজগুলোর জন্য প্রযোজ্য হবে।

এই ব্যবস্থায় দেশীয় বীমা কোম্পানিগুলো সম্মিলিতভাবে কাজ করে বীমা পলিসি ইস্যু করবে। তাদের এই কার্যক্রমকে সমর্থন করবে সরকারের সার্বভৌম গ্যারান্টি। ফলে আন্তর্জাতিক বীমা প্রতিষ্ঠানের ওপর নির্ভরতা কমবে এবং দেশের নিজস্ব বীমা খাত আরও শক্তিশালী হবে।

সাম্প্রতিক সময়ে ইরানকে ঘিরে উত্তেজনা, রাশিয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা এবং হরমুজ প্রণালীর মতো গুরুত্বপূর্ণ নৌপথে নিরাপত্তা ঝুঁকি বেড়ে যাওয়ায় বৈশ্বিক বীমা বাজারে চাপ তৈরি হয়েছে। অনেক আন্তর্জাতিক বীমা প্রতিষ্ঠান প্রিমিয়াম বাড়িয়েছে বা কাভারেজ সীমিত করেছে। এতে জ্বালানি তেল ও গ্যাসসহ গুরুত্বপূর্ণ পণ্যের আমদানি ব্যয় বেড়েছে এবং সরবরাহ শৃঙ্খলে বিঘ্ন সৃষ্টি হয়েছে।

এই পরিস্থিতিতে বিএমআই পুল চালু হলে তুলনামূলকভাবে কম খরচে এবং সহজে বীমা সুবিধা পাওয়া যাবে বলে আশা করা হচ্ছে। এর ফলে ভারতের সামুদ্রিক বাণিজ্য আরও নিরাপদ হবে এবং গুরুত্বপূর্ণ পণ্যের আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম নির্বিঘ্নভাবে চলতে পারবে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এটি শুধু একটি বীমা প্রকল্প নয়; বরং একটি কৌশলগত পদক্ষেপ। এর মাধ্যমে ভারত ভবিষ্যতের অনিশ্চয়তা মোকাবিলায় নিজেদের আরও প্রস্তুত করছে এবং অর্থনৈতিকভাবে আরও শক্ত অবস্থানে পৌঁছানোর পথ তৈরি করছে।