যুদ্ধঝুঁকি বাড়লেও হরমুজ প্রণালীতে বীমা কভার অব্যাহত রাখবে লয়েডস
.jpg)
সংবাদ ডেস্ক: মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের মধ্যেও হরমুজ প্রণালী দিয়ে চলাচলকারী জাহাজের জন্য বীমা কভার অব্যাহত রাখার কথা জানিয়েছে লন্ডনভিত্তিক ঐতিহ্যবাহী বীমা বাজার লয়েডস অব লন্ডন।
লয়েডসের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা প্যাট্রিক টিয়ারনান ব্লুমবার্গ টেলিভিশনকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেন, নিরাপত্তা ঝুঁকি বেড়ে যাওয়ায় বর্তমানে খুব কম সংখ্যক শিপিং কোম্পানি এই প্রণালী ব্যবহার করছে। ফলে নতুন করে বীমা নেয়ার চাহিদাও কমে গেছে।
বিশ্বের মোট তেলের প্রায় ২০ শতাংশ হরমুজ প্রণালী দিয়ে পরিবাহিত হয়। এছাড়া গ্যাস, সারসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পণ্যও এই পথ দিয়ে যায়। তবে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের সংঘাত শুরুর পর থেকে এই গুরুত্বপূর্ণ রুট কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছে।
যদিও লয়েডস মার্কেট অ্যাসোসিয়েশন (এলএমএ) জানিয়েছে যে বীমা কভার এখনো চালু রয়েছে, তবে ঝুঁকি বেড়ে যাওয়ায় প্রিমিয়াম উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে যুদ্ধঝুঁকির বীমা প্রিমিয়াম একটি জাহাজের মোট মূল্যের প্রায় ৫ শতাংশে পৌঁছেছে, যা সংঘাতের শুরুর সময়ের তুলনায় প্রায় পাঁচগুণ বেশি।
প্যাট্রিক টিয়ারনান বলেন, মেরিটাইম ওয়ার রিস্ক বীমায় মূল্য নির্ধারণ খুবই গতিশীল। পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করে প্রিমিয়াম হঠাৎ বাড়তে পারে, আবার দ্রুত কমেও যেতে পারে।
তিনি আরও জানান, শান্তিকালে এই ধরনের বীমার প্রিমিয়াম তুলনামূলকভাবে কম থাকে, তবে সংকটকালে তা দ্রুত বৃদ্ধি পায়। তবুও সামগ্রিক বীমা শিল্পে এই খাতের অংশ এখনো সীমিত।
এলএমএ’র যৌথ যুদ্ধ কমিটি জানিয়েছে, বীমা কভার কার্যকর থাকলেও বর্তমানে প্রতিটি ক্ষেত্রে ঝুঁকি মূল্যায়ন করে কেস-বাই-কেস ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নেয়া হচ্ছে। তাদের তথ্য অনুযায়ী, ইতোমধ্যে ২৫টিরও বেশি বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার ঘটনা ঘটেছে।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের ইন্টারন্যাশনাল ডেভেলপমেন্ট ফাইন্যান্স কর্পোরেশন (ডিএফসি) গত ১১ মার্চ জানিয়েছে, তারা চাব লিমিটেডের সঙ্গে যৌথভাবে ২০ বিলিয়ন ডলারের একটি রি-ইন্স্যুরেন্স ব্যাকস্টপ গঠন করছে, যার লক্ষ্য এই রুটে জাহাজ চলাচল পুনরুদ্ধার করা। তবে মুডিস রেটিংসের মতে, এই উদ্যোগে দায়বদ্ধতা (লায়াবিলিটি) কভার অন্তর্ভুক্ত না থাকায় এটি সংকট পুরোপুরি সমাধান করতে পারবে না।
অন্যদিকে, যুক্তরাজ্যের অর্থমন্ত্রী র্যাচেল রিভস সম্প্রতি লয়েডসের চেয়ারম্যান চার্লস রক্সবার্গের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। আলোচনায় হরমুজ প্রণালীতে জাহাজ চলাচল সচল রাখতে বীমা সহায়তা এবং প্রয়োজনে যুক্তরাজ্যের তেল মজুত ব্যবহারের বিষয়টি উঠে আসে।
প্যাট্রিক টিয়ারনান বলেন, ‘এই পরিস্থিতিতে সরকারি ও বেসরকারি খাতের যৌথ উদ্যোগ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আমরা এ বিষয়ে নিয়মিত আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছি।’
হরমুজ প্রণালীতে নিরাপত্তা ঝুঁকি বেড়ে যাওয়ায় শিপিং কার্যক্রম স্থবির থাকলেও বীমা কভার এখনো চালু রয়েছে। তবে উচ্চ প্রিমিয়াম ও নিরাপত্তা উদ্বেগের কারণে এই গুরুত্বপূর্ণ রুটে দ্রুত স্বাভাবিকতা ফিরবে কি না, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে। একই সঙ্গে এই পরিস্থিতি বৈশ্বিক জ্বালানি বাজার ও সামুদ্রিক বীমা খাতে দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ফেলতে পারে।




